টানা দ্বিতীয় হারে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

টানা দ্বিতীয় হারে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

১৪৯ রানের জবাব দিতে নেমে ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৩ উইকেটে ১০০। অর্থাৎ জিততে বাকি ৩০ বলে লাগত ৫০ রান। সেট ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিমসহ হাতে ৭টি উইকেট। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে সহজ সমীকরণই। তাছাড়া চট্টগ্রামের পিচও বেশ ব্যাটিং সহায়ক। তবুও এই সহজ সমীকরণটা মিলাতে পারল না বাংলাদেশ!

দারুণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ শেষের ওভাগুলোতে তালগোল পাকিয়ে ফেললেন। জাকের আলি অনিক আজও ব্যর্থ। দলের চাপের মুহূর্তে দলকে আরও চাপে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে ১৪ রানে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে খেমেছে বাংলাদেশ।

এই হারে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিতে নিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচটা জিতেছিলেন ক্যারিবিয়ানরা। আজকের ১৪ রানের জয়টা সিরিজ জয় নিশ্চিত করল সফরকারীদের। অপর দিকে টানা তিন সিরিজ জেতার পর সিরিজ হারের স্বাদ পেতে হলো লিটন দাসের বাংলাদেশকে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৪৯ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। শুরুর ওভারগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের বিপক্ষে ভুগছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। তানজিদ তামিম টিকে গেলেও সাইফ হাসান ধুঁকতে ধুঁকতে ফিরেছেন ১১ বলে ৫ রান করে।

লিটন দাস তিনে নেমে বাংলাদেশের ইনিংসে গতি আনার চেষ্টা করেন। লিটন অবশ্য বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ক্রিজে। আকিল হোসেনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড হওয়ার আগে ১৭ বলে ৪টি চারে করেছেন ২৩ রান। এরপর তাওহিদ হৃদয় বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগুতে পারেননি। ফিরেছেন ১৪ বলে ১২ রান করে।

তবে তানজিদ হাসান তামিম শুরুতে ভুগলেও সেট হওয়ার পর দাপুটে ব্যাট করেছেন। পাঁচ নম্বরে নামা জাকের আলি অনিক ভুগলেও অপর প্রান্ত থেকে ঝড়ো ব্যাটিং করে রানের গতি ঠিক রেখেছিলেন ৩৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করা তামিম।

তবে জাকের একের পর এক ডট বল খেলাতে আরও বেশি চাপে পড়া তামিম ১৮তম ওভারে গিয়ে ফলে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। জাকের আলি, শামীম পাটোয়ারিরা সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করা দূরের কথা উল্টো বিপদ বাড়িয়েছেন।

১৮ বলে ১৭ রান করে ফিরেছেন জাকের। ১ রান করে আউট হয়েছেন শামীম। শেষ দিকে রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসানরাও আজ আগের ম্যাচের মতো রান পাননি। ফলাফল বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় হার। তানজিদ হাসান তামিম ৪৮ বল খেলে ৩টি করে চার-ছয়ে ৬১ রান করে ফিরেছেন।

এর আগে শেষের ওভারগুলোতে দারুণ বোলিং করেছেন বাংলাদেশি বোলাররা। বাংলাদেশের বোলিংয়ের শুরুটাও ভালো হয়েছিল। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে মার খেয়েছেন স্বাগতিক বোলাররা।

আগে বোলিং করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ব্রেন্ডন কিংকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তারপরই শেই হোপ আর অলিক অ্যাথানেজের প্রতিআক্রমণ। বাংলাদেশের স্পিন, পেস কোনো আক্রমণই থামাতে পারছিল না দুজনকে।

১২তম ওভারে গিয়ে জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। শুধু জুটি ভাঙা নয়, পর পর দুই উইকেট তুলে নেন নাসুম। ৩৩ বলে ৫টি চার ৩টি ছয়ে ৫২ রান করে ফেরেন অলিক অ্যাথানেজ। পরের বলে রাদারফোর্ডকে ফেরান নাসুম। ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে দুর্দান্ত খেলতে থাকা শেই হোপকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। ফেরার আগে ৩৬ বলে ৩টি করে চার-ছয়ে ৫৫ রান করে ফেরেন হোপ।

ক্যাবিয়ানদের ওপর আরও চাপ বাড়ান রিশাদ হোসেন। ১৫তম ওভারে আক্রমণে এসে তিন বলের ব্যবধানে রভম্যান পাওয়েল (৩) ও জেসন হোল্ডারকে (৪) ফেরান রিশাদ।

এরপর রোস্টন চেজ ও রোমারিও সেফার্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেশি এগুতে পারেননি। শেষ ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের দেড়শ’র আগেই আটকে রাখেন মোস্তাফিুজর রহমান।

২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানে থেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে ২১ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। রিশাদ ৩ ওভারে ২০ রান ও নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে ৩৫ রান খরচায় নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ১ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *