জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে নতুন নেতৃত্ব। তবে এবারের কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রাজপথের পরীক্ষিত এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা নেতাদের। বর্তমান কমিটি এবং সাবেক ছাত্রদল নেতাদের সমন্বয়ে নতুন-পুরোনো নেতৃত্বকে নিয়ে শক্তিশালী কমিটি গঠনের বিষয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়েছেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন—এমন নেতাদেরই এবার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখায় কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের শীর্ষ পদের লড়াইয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বর্তমান কমিটির অন্যতম সদস্য আমিনুল ইসলাম।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা মামলার তোয়াক্কা না করে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের দিয়েই আগামী দিনের শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ‘সুপার টু’ বা শীর্ষ নেতৃত্বে আমিনুল ইসলামের নাম সাংগঠনিক সব স্তরে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা উত্তরের প্রতিটি কর্মসূচিতে আমিনুল ইসলাম ছিলেন সামনের সারিতে। পুলিশের দমন-পীড়ন এবং আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনীর হামলা মোকাবিলা করে সংগঠনকে সচল রাখতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখায় তিনি দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের গুডবুকে রয়েছেন।
যুবদলের তৃণমূল কর্মীরা জানান, আমিনুল ইসলাম কেবল রাজপথের লড়াকু সৈনিকই নন, বরং তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। তার মতো ত্যাগী নেতাকে নেতৃত্বে আনলে মহানগর উত্তর যুবদল আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
আলোচনায় আরও যারা: ঢাকা মহানগর উত্তরের শীর্ষ নেতৃত্বে আমিনুল ইসলামের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু এবং মনিরুল ইসলাম স্বপনসহ কয়েকজন নেতা। দলটির হাইকমান্ড নতুন ও পুরোনোর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি উপহার দিতে চায়।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় এগিয়ে আছেন বর্তমান সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। এছাড়াও এই তালিকায় আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল এবং দক্ষিণ যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গাফফার। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি, ওমর ফারুক মুন্না এবং আসিফুর রহমান বিপ্লব।
দলীয় সূত্র বলছে, এবারের পুনর্গঠনে কোনো বিতর্কিত বা নিষ্ক্রিয় নেতার স্থান হবে না। যারা সরাসরি রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং বহুবার জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাদের হাতেই তুলে দেওয়া হবে রাজধানীর যুবদলের মশাল।
বিগত আন্দোলনের রাজপথ কাঁপানো নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা বাড়বে এবং দল আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Posted inরাজনীতি
