শিবিরের সেমিনারে নারী বক্তা না থাকায় শহীদুল আলমের অসন্তোষ

শিবিরের সেমিনারে নারী বক্তা না থাকায় শহীদুল আলমের অসন্তোষ

রাষ্ট্রের সংস্কার ও মেরামতের লক্ষে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলম। তিনি বলেন, ‘আদর্শিক বা ধর্মীয় চিন্তায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্র প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তব্যের শুরুতেই অনুষ্ঠানে কোনো নারী বক্তা না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শহিদুল আলম। তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় বসে আমি হতাশ হয়েছি যে এখানে একজনও নারী নেই। ধর্মতত্ত্বের ক্ষেত্রে নারীর বিষয়ে আপনাদের কিছু অবস্থানের সঙ্গে আমার ঘোর বিরোধিতা রয়েছে। তবুও আমি এখানে এসেছি কারণ জুলাই সনদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘এই যুদ্ধ ২০২৪ সালে শুরু হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত লড়াই। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ‘রাষ্ট্রের মেরামত চাই’ প্ল্যাকার্ডটি আমাকে ভীষণভাবে স্পর্শ করেছিল। একটি দেশ পাওয়ার পর সেখানে অনেক সমস্যা থাকে, আর সেই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যই মেরামত প্রয়োজন। মেরামত করতে গেলে কিছুটা বিশৃঙ্খলা বা কষ্ট হতে পারে, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের তা মেনে নিতে হবে।’’

ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশপ্রেমকে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শহিদুল আলম বলেন, ‘জুলাই সনদে আমার বা আপনাদের দ্বিমত থাকতে পারে, ভিন্ন চিন্তা থাকতে পারে। কিন্তু গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমতের মাঝেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। সংসদে তর্ক হবে, ঝগড়া হবে, কিন্তু দিনশেষে লক্ষ্য হতে হবে জনস্বার্থ।’

পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু নিজের পছন্দের অংশটুকু প্রচার করা প্রোপাগান্ডা, এটি সাংবাদিকতা নয়। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সত্যকে তুলে ধরতে হবে।’

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ শিশির মনির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতারা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *